আলিঙ্গন - মহাদেব সাহা
তোমার মাটিতে আঁকা
আমার শরীর
চুলের অরণ্যে ছায়া,
রৌদ্র তোমার আমি দেহের সীমায়।
তুমি চোখ খোলো
তোমার চোখের কালো জলে
দেখো আমি খেলা করি মাছ
কোথায় ভাসাবে তুমি
কোথায় খুঁড়বে কালো গোর
সমগ্র মাটিতে দেখো
ছেয়ে যাবে আমার শরীর;
যা চাও আমাকে তুমি
পাখি বলো পাখি
মেঘ বলো মেঘ
তুমি যদি মেলে ধরো তোমার শরীর
আমরা দুজনে হই পাথর খোদাই।
……………………………………..
চিরকুট - মহাদেব সাহা (অন্তমিত কালের গৌরব)
হঠাৎ সেদিন হাতে পেয়ে চিরকুট
নিমিষে সময় হয়ে গেলো যেন লুট;
পার হয়ে বহু বছরের ব্যবধান
কানে ভেসে এলো হারানো দিনের গান।
মনে পড়ে গেলো তোমার প্রতম খাম
আদ্যক্ষরে লেখা ছিলো শুধু নাম,
একটি গোলাপ আঁকা ছিলো এককোণে
র-ফলাবিহীন
প্রিয় লেখা পড়ে মনে;
খুব সাধারণ খাতার কাগজে লেখা
লুকিয়ে পড়েছি, হয়নি
সেভাবে দেখা
তবু মনে আছে কোথায় কী ছিলো তাতে,
এতোদিন পর চিরকুট পেয়ে হাতে
আবার হঠাৎ কেঁপে ওঠে যেন বুক
নিজেই তখন লুকাই নিজের মুখ;
এই বয়সেও একখানি চিরকুট
তোলে শিহরন, কম্পিত
করপুট।
……………………………………..
তুমি
চলে
যাবে
বলতেই -
মহাদেব
সাহা
তুমি চলে যাবে বলতেই বুকের মধ্যে
পাড় ভাঙার শব্দ শুনি-
উঠে দাঁড়াতেই দুপুরের খুব গরম
হাওয়া বয়,
মার্সির কাঁচ ভাঙতে শুরু করে;
দরোজা থেকে যখন এক পা বাড়াও আমি
দুই চোখে কিছুই দেখি না-
এর নাম তোমার বিদায়,
আচ্ছা আসি, শুভরাত্রি,
খোদাহাফেজ।
তোমাকে আরেকটু বসতে বললেই তুমি যখন
মাথা নেড়ে না, না বলো
সঙ্গে সঙ্গে সব মাধবীলতার ঝোপ
ভেঙে পড়ে;
তুমি চলে যাওয়ার জন্যে যখন
সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকো
তৎক্ষণাৎ পৃথিবীর আরো কিছু বনাঞ্চল উজাড়
হয়ে যায়,
তুমি উঠোন পেরুলে আমি কেবল
শূন্যতা শূন্যতা
ছাড়া আর কিছুই দেখি না
আমার প্রিয় গ্রন্থগুলির সব
পৃষ্ঠা কালো কালিতে ঢেকে যায়।
অথচ চোখের আড়াল অর্থ কতোটুকু যাওয়া,
কতোদূর যাওয়া-
হয়তো নীলক্ষেত থেক বনানী,
ঢাকা থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট
তবু তুমি চলে যাবে বলতেই বুকের
মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে
সেই থেকে অবিরাম কেবল পাড় ভাঙার শব্দ শুনি
পাতা ঝরার শব্দ শুনি-
আর কিছুই শুনি না।
তুমি চলে যাবে বলতেই বুকের মধ্যে
পাড় ভাঙার শব্দ শুনি-
উঠে দাঁড়াতেই দুপুরের খুব গরম
হাওয়া বয়,
মার্সির কাঁচ ভাঙতে শুরু করে;
দরোজা থেকে যখন এক পা বাড়াও আমি
দুই চোখে কিছুই দেখি না-
এর নাম তোমার বিদায়,
আচ্ছা আসি, শুভরাত্রি,
খোদাহাফেজ।
তোমাকে আরেকটু বসতে বললেই তুমি যখন
মাথা নেড়ে না, না বলো
সঙ্গে সঙ্গে সব মাধবীলতার ঝোপ
ভেঙে পড়ে;
তুমি চলে যাওয়ার জন্যে যখন
সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকো
তৎক্ষণাৎ পৃথিবীর আরো কিছু বনাঞ্চল উজাড়
হয়ে যায়,
তুমি উঠোন পেরুলে আমি কেবল
শূন্যতা শূন্যতা
ছাড়া আর কিছুই দেখি না
আমার প্রিয় গ্রন্থগুলির সব
পৃষ্ঠা কালো কালিতে ঢেকে যায়।
অথচ চোখের আড়াল অর্থ কতোটুকু যাওয়া,
কতোদূর যাওয়া-
হয়তো নীলক্ষেত থেক বনানী,
ঢাকা থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট
তবু তুমি চলে যাবে বলতেই বুকের
মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে
সেই থেকে অবিরাম কেবল পাড় ভাঙার শব্দ শুনি
পাতা ঝরার শব্দ শুনি-
আর কিছুই শুনি না।
……………………………………..
চিঠি দিও - মহাদেব সাহা
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও
আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।
চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও ...
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজো তো অমল আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ....
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল! ...
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি
দিও খামে
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু, হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলেও বোলো, ভালবাসি !
……………………………………..
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও
আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।
চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও ...
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজো তো অমল আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ....
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল! ...
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি
দিও খামে
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু, হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলেও বোলো, ভালবাসি !
……………………………………..
বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ মহাদেব
সাহা -
আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে
জাগাতে পারিনি ভালোবাসা,
ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের
শিকড়ে একটু জল-
ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল
আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি;
আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না,
বন্ধু ছিলো না,
ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না,
আমি ভাসমান শ্যাওলা ছিলাম,
শুধু স্বপ্ন ছিলাম;
কারো প্রেমিকাকে গোপনে বুকের মধ্যে
এভাবে প্রেমিকা ভেবে,
কারো সুখকে এভাবে বুকের মধ্যে
নিজের অনন্ত সুখ ভেবে,
আমি আজো বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ।
তোমাদের সকলের উষ্ণ ভালোবাসা, তোমাদের
সকলের প্রেম
আমি সারি সারি চারাগাছের মতন আমার বুকে
রোপণ করেছি,
একাকী সেই প্রেমের শিকড়ে আমি
ঢেলেছি অজস্র জলধারা।
সকলের বুকের মধ্যেই একেকজন নারী আছে,
প্রেম আছে,
নিসর্গ-সৌন্দর্য আছে,
অশ্রুবিন্দু আছে
আমি সেই অশ্রু, প্রেম, ও নারী ও স্বপ্নের জন্যে
দীর্ঘ রাত্রি একা জেগেছি;
সকলের বুকের মধ্যে যেসব শহরতলী আছে,
সমুদ্রবন্দর আছে
সাঁকো ও সুড়ঙ্গ আছে, ঘরবাড়ি
আছে
একেকটি প্রেমিকা আছে, প্রিয় বন্ধু আছে,
ভালোবাসার প্রিয় মুখ আছে
সকলের বুকের মধ্যে স্বপ্নের সমুদ্রপোত আছে,
অপার্থিব ডালপালা আছে।
আমি সেই প্রেম, সেই ভালোবাসা, সেই স্বপ্ন
সেই রূপকথার
জীবন্তমানুষ হয়ে আছি;
আমি সেই স্বপ্নকথা হয়ে আছি, তোমাদের
প্রেম হয়ে আছি,
তোমাদের স্বপ্নের মধ্যে ভালোবাসা হয়ে আছি
আমি হয়ে আছি সেই রূপকথার স্বপ্নমানুষ।
……………………………………..
আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে
জাগাতে পারিনি ভালোবাসা,
ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের
শিকড়ে একটু জল-
ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল
আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি;
আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না,
বন্ধু ছিলো না,
ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না,
আমি ভাসমান শ্যাওলা ছিলাম,
শুধু স্বপ্ন ছিলাম;
কারো প্রেমিকাকে গোপনে বুকের মধ্যে
এভাবে প্রেমিকা ভেবে,
কারো সুখকে এভাবে বুকের মধ্যে
নিজের অনন্ত সুখ ভেবে,
আমি আজো বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ।
তোমাদের সকলের উষ্ণ ভালোবাসা, তোমাদের
সকলের প্রেম
আমি সারি সারি চারাগাছের মতন আমার বুকে
রোপণ করেছি,
একাকী সেই প্রেমের শিকড়ে আমি
ঢেলেছি অজস্র জলধারা।
সকলের বুকের মধ্যেই একেকজন নারী আছে,
প্রেম আছে,
নিসর্গ-সৌন্দর্য আছে,
অশ্রুবিন্দু আছে
আমি সেই অশ্রু, প্রেম, ও নারী ও স্বপ্নের জন্যে
দীর্ঘ রাত্রি একা জেগেছি;
সকলের বুকের মধ্যে যেসব শহরতলী আছে,
সমুদ্রবন্দর আছে
সাঁকো ও সুড়ঙ্গ আছে, ঘরবাড়ি
আছে
একেকটি প্রেমিকা আছে, প্রিয় বন্ধু আছে,
ভালোবাসার প্রিয় মুখ আছে
সকলের বুকের মধ্যে স্বপ্নের সমুদ্রপোত আছে,
অপার্থিব ডালপালা আছে।
আমি সেই প্রেম, সেই ভালোবাসা, সেই স্বপ্ন
সেই রূপকথার
জীবন্তমানুষ হয়ে আছি;
আমি সেই স্বপ্নকথা হয়ে আছি, তোমাদের
প্রেম হয়ে আছি,
তোমাদের স্বপ্নের মধ্যে ভালোবাসা হয়ে আছি
আমি হয়ে আছি সেই রূপকথার স্বপ্নমানুষ।
……………………………………..
তোমাকে ভুলতে চেয়ে আরো বেশি ভালোবেসে ফেলি - মহাদেব
সাহা
তোমাকে ভুলতে চেয়ে আরো বেশি ভালোবেসে ফেলি
তোমাকে ছাড়াতে গিয়ে আরো বেশি গভীরে জড়াই,
যতোই তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই দূরে
ততোই তোমার হাতে বন্দি হয়ে পড়ি
তোমাকে এড়াতে গেলে এভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে যাই
এভাবেই সম্পূর্ণ আড়ষ্ট হয়ে পড়ি;
তোমাকে ছাড়াতে গেলে আরো ক্রমশ জড়িয়ে যাই আমি
আমার কিছুই আর করার থাকে না
তুমি এভাবেই বেঁধে ফেলো যদি দূরে যেতে চাই
যদি ডুবে যেতে চাই তুমি দুহাতে জাগাও।
এমন সাধ্য কী আছে তোমার চোখের সামান্য আড়াল হই,
দুই হাত দূরে যাই
যেখানেই যেতে চাই সেখানেই বিছিয়ে রেখেছো ডালপালা,
তোমাকে কি অতিক্রম করা কখনও সম্ভব
তুমি সমুদ্রের চেয়েও সমুদ্র
আকাশের চেয়েও আকাশ তুমি আমার ভেতরে জেগে আছো।
তোমাকে ভুলতে চেয়ে তাই আরো বেশি
ভালোবেসে ফেলি,
তোমাকে ঠেলতে গিয়ে দূরে আরো কাছে টেনে নেই
যতোই তোমার কাছ থেকে আমি দূরে যেতে চাই
ততো মিশে যাই নি:ম্বাসে প্রশ্বাসে,
ততোই তোমার আমি হয়ে পড়ি ছায়ার মতন;
কোনোদিকে যাওয়ার আর একটুও জায়গা থাকে না
তুমিই জড়িয়ে রাখো তোমার কাঁটায়।
তোমাকে ছাড়তে গিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে আরো জড়িয়েছি
তোমাকে ভুলতে গিয়ে আরো ভালোবেসেছি
তোমাকে।
……………………………………..
তোমাকে ছাড়াতে গিয়ে আরো বেশি গভীরে জড়াই,
যতোই তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই দূরে
ততোই তোমার হাতে বন্দি হয়ে পড়ি
তোমাকে এড়াতে গেলে এভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে যাই
এভাবেই সম্পূর্ণ আড়ষ্ট হয়ে পড়ি;
তোমাকে ছাড়াতে গেলে আরো ক্রমশ জড়িয়ে যাই আমি
আমার কিছুই আর করার থাকে না
তুমি এভাবেই বেঁধে ফেলো যদি দূরে যেতে চাই
যদি ডুবে যেতে চাই তুমি দুহাতে জাগাও।
এমন সাধ্য কী আছে তোমার চোখের সামান্য আড়াল হই,
দুই হাত দূরে যাই
যেখানেই যেতে চাই সেখানেই বিছিয়ে রেখেছো ডালপালা,
তোমাকে কি অতিক্রম করা কখনও সম্ভব
তুমি সমুদ্রের চেয়েও সমুদ্র
আকাশের চেয়েও আকাশ তুমি আমার ভেতরে জেগে আছো।
তোমাকে ভুলতে চেয়ে তাই আরো বেশি
ভালোবেসে ফেলি,
তোমাকে ঠেলতে গিয়ে দূরে আরো কাছে টেনে নেই
যতোই তোমার কাছ থেকে আমি দূরে যেতে চাই
ততো মিশে যাই নি:ম্বাসে প্রশ্বাসে,
ততোই তোমার আমি হয়ে পড়ি ছায়ার মতন;
কোনোদিকে যাওয়ার আর একটুও জায়গা থাকে না
তুমিই জড়িয়ে রাখো তোমার কাঁটায়।
তোমাকে ছাড়তে গিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে আরো জড়িয়েছি
তোমাকে ভুলতে গিয়ে আরো ভালোবেসেছি
তোমাকে।
……………………………………..
"কবিতা ও স্কেচ" — মহাদেব সাহা
তুমি দরজা নাও খুলতে পারো
আমি কি পাখি যে সারারাত ভাঙ্গাগলায় তোমাকে
ডাকতে পারবো,
আমি কি নদীর ঢেউ যে আছড়ে পড়তে পারবো
তোমার দুয়ারে এসে,
এমন কি কেউ যে অবিরাম করাঘাত করতে করতে
চেনা কণ্ঠে বলতে পারবো,
দরজা খোলো;
আমি তেমন কেউ নই,
নদীর ঢেউ নই,
রাতের পাখি নই,
পুরনো প্রেমিক নই
যার মৃদু করাঘাতে বিশ্বস্ত ডাকে তুমি তৎক্ষণাৎ
দরজা খুলে দেবে।
আমি জলের স্রোতের মতো, বাতাসের
কাঁপা কণ্ঠস্বরের মতো
অস্থির শিশিরবিন্দুর মতো নিঃশব্দে তোমার
পায়ে ঝরে পড়ি
সেই জল কখনো তোমার চোখে পড়ে, কখনো পড়ে না;
এই সামান্য সঞ্চয় নিয়ে আমি তোমার কাছে খুব
বেশি কী চাইতে পারি?
তুমি ডাক শুনতে পারো, নাও পারো
ফিরে তাকাতে পারো, নাও পারো,
তখনই দরজা খুলে আমাকে অভ্যর্থনা জানাবে
সেতো আশাই করি না।
তুমি দরজা নাও খুলতে পারো
আমি কি পাখি যে সারারাত ভাঙ্গাগলায় তোমাকে
ডাকতে পারবো,
আমি কি নদীর ঢেউ যে আছড়ে পড়তে পারবো
তোমার দুয়ারে এসে,
এমন কি কেউ যে অবিরাম করাঘাত করতে করতে
চেনা কণ্ঠে বলতে পারবো,
দরজা খোলো;
আমি তেমন কেউ নই,
নদীর ঢেউ নই,
রাতের পাখি নই,
পুরনো প্রেমিক নই
যার মৃদু করাঘাতে বিশ্বস্ত ডাকে তুমি তৎক্ষণাৎ
দরজা খুলে দেবে।
আমি জলের স্রোতের মতো, বাতাসের
কাঁপা কণ্ঠস্বরের মতো
অস্থির শিশিরবিন্দুর মতো নিঃশব্দে তোমার
পায়ে ঝরে পড়ি
সেই জল কখনো তোমার চোখে পড়ে, কখনো পড়ে না;
এই সামান্য সঞ্চয় নিয়ে আমি তোমার কাছে খুব
বেশি কী চাইতে পারি?
তুমি ডাক শুনতে পারো, নাও পারো
ফিরে তাকাতে পারো, নাও পারো,
তখনই দরজা খুলে আমাকে অভ্যর্থনা জানাবে
সেতো আশাই করি না।
……………………………………..
অন্তরাল
- মহাদেব সাহা
মানুষের ভিড়ে মানুষ লুকিয়ে থাকে
গাছের আড়ালে গাছ,
আকাশ লুকায় ছোট্ট নদীর বাঁকে
জলের গভীরে মাছ;
পাতার আড়ালে লুকায় বনের ফুল
ফুলের আড়ালে কাঁটা,
মেঘের আড়ালে চাঁদের হুলস্তুল
সাগরে জোয়ার ভাটা।
চোখের আড়ালে স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে
তোমার আড়ালে আমি,
দিনের বক্ষে রাত্রিকে ধরে রাখে
এভাবে দিবসযামী।
মানুষের ভিড়ে মানুষ লুকিয়ে থাকে
গাছের আড়ালে গাছ,
আকাশ লুকায় ছোট্ট নদীর বাঁকে
জলের গভীরে মাছ;
পাতার আড়ালে লুকায় বনের ফুল
ফুলের আড়ালে কাঁটা,
মেঘের আড়ালে চাঁদের হুলস্তুল
সাগরে জোয়ার ভাটা।
চোখের আড়ালে স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে
তোমার আড়ালে আমি,
দিনের বক্ষে রাত্রিকে ধরে রাখে
এভাবে দিবসযামী।
……………………………………..
আমাকে কি ফেলে যেতে হবে মহাদেব
সাহা -
এই আকাশ কি আমার নয়
আমি তার শুশ্রূষা হারাবো?
এই ভোরের শিশির, উদাসীন মেঘ,
স্নিগ্ধ বনভূমি
আমি তার সান্নিধ্য পাবো না?
আমাকে কি ফেলে যেতে হবে এই নদীর কল্লোল
ভাটিয়ালি গান, কাশফুল, চেনা ঝাউবন
এই দিঘি, জলাশয়, প্রিয় সন্ধ্যাতারা-
ফেলে যেতে হবে এই স্মৃতির উঠোন
প্রেমিকার মুগ্ধ চোখ, মায়াময় দিব্য হাতছানি?
ফেলে যেতে হবে শৈশবের স্মৃতিময় দিব্য হাতছানি?
ফেলে যেতে হবে শৈশবের স্মৃতিময় মাঠ,
হাটখোলা
বৃক্সের পবিত্র ছায়া, তৃণক্ষেত্র, গ্রামের অথই বিল
শহরের এই ফুটপাত, উত্তাল রেস্তরাঁ।
এই নদ কি আমার নয়, বৃক্ষ কি আমার নয়,
এই নদী কি আমার নয়, বৃক্ষ কি আমার নয়,
ভাঁটফুল, বর্ষার কদম,
নতুন ধানের গন্দ, বৈশাখের মেলা,
রুপালি ইলিশ? ফেলে যেতে হবে মায়ের মধুর স্মৃতি
পিতার অন্তিম শয্যা,
বোনের আদর, ভাইফোঁটা, তুলসীমঞ্চ
সন্ধ্যাপ্রদীপ-
বাউলের গান, সুফী দরবেশের ধ্যানী দৃষ্টি
শরতের শুভ্র সকাল, বৃষ্টিভেজা দোয়েল-শালিক?
আমাকে কি অবশেষে ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তর মতো
ফেলে যেতে হবে এই বাস্তভিটা, ভদ্রাসন,
রাইসরিসার ক্ষেত,
ফেলে যেতে হবে পান্ডুলিপি, কবিতার খাতা!
এই আকাশ কি আমার নয়
আমি তার শুশ্রূষা হারাবো?
এই ভোরের শিশির, উদাসীন মেঘ,
স্নিগ্ধ বনভূমি
আমি তার সান্নিধ্য পাবো না?
আমাকে কি ফেলে যেতে হবে এই নদীর কল্লোল
ভাটিয়ালি গান, কাশফুল, চেনা ঝাউবন
এই দিঘি, জলাশয়, প্রিয় সন্ধ্যাতারা-
ফেলে যেতে হবে এই স্মৃতির উঠোন
প্রেমিকার মুগ্ধ চোখ, মায়াময় দিব্য হাতছানি?
ফেলে যেতে হবে শৈশবের স্মৃতিময় দিব্য হাতছানি?
ফেলে যেতে হবে শৈশবের স্মৃতিময় মাঠ,
হাটখোলা
বৃক্সের পবিত্র ছায়া, তৃণক্ষেত্র, গ্রামের অথই বিল
শহরের এই ফুটপাত, উত্তাল রেস্তরাঁ।
এই নদ কি আমার নয়, বৃক্ষ কি আমার নয়,
এই নদী কি আমার নয়, বৃক্ষ কি আমার নয়,
ভাঁটফুল, বর্ষার কদম,
নতুন ধানের গন্দ, বৈশাখের মেলা,
রুপালি ইলিশ? ফেলে যেতে হবে মায়ের মধুর স্মৃতি
পিতার অন্তিম শয্যা,
বোনের আদর, ভাইফোঁটা, তুলসীমঞ্চ
সন্ধ্যাপ্রদীপ-
বাউলের গান, সুফী দরবেশের ধ্যানী দৃষ্টি
শরতের শুভ্র সকাল, বৃষ্টিভেজা দোয়েল-শালিক?
আমাকে কি অবশেষে ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তর মতো
ফেলে যেতে হবে এই বাস্তভিটা, ভদ্রাসন,
রাইসরিসার ক্ষেত,
ফেলে যেতে হবে পান্ডুলিপি, কবিতার খাতা!
……………………………………..
চাই না কোথাও যেতে - মহাদেব সাহা
আমি তো তোমাকে ফেলে চাই না কোথাও
যেতে
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা মনোরম স্থানে,
সমুদ্র-সৈকতে, স্বর্ণদ্বীপে-
স্বপ্নেও শিউরে উঠি যখন দেখতে পাই
ছেড়ে যাচ্ছি এই মেঠো পথ, বটবৃক্ষ, রাখালের
বাঁশি, হঠাৎ আমার বুকে আছড়ে পড়ে পদ্মার ঢেউ
আমার দুচোখে শ্রাবণের নদী বয়ে যায়;
যখন হঠাৎ দেখি ছেড়ে যাচ্ছি সবুজ পালের
নৌকো,
ছেড়ে যাচ্ছি ঘরের মেঝেতে আমার মায়ের
আঁকা
সারি সারি লক্ষ্মীর পা
বোবা চিৎকারে আর্তকণ্ঠে বলে উঠি হয়তো
তখনই-
তোমার বুকের মধ্যে আমাকে লুকিয়ে রাখো
আমি এই মাটি ছেড়ে, মাটির সান্নিধ্য ছেড়ে,
আকাশের আত্মীয়তা ছেড়ে,
চাই না কোথাও যেতে, কোথাও যেতে।
আমি তো তোমাকে ফেলে চাই না কোথাও
যেতে
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা মনোরম স্থানে,
সমুদ্র-সৈকতে, স্বর্ণদ্বীপে-
স্বপ্নেও শিউরে উঠি যখন দেখতে পাই
ছেড়ে যাচ্ছি এই মেঠো পথ, বটবৃক্ষ, রাখালের
বাঁশি, হঠাৎ আমার বুকে আছড়ে পড়ে পদ্মার ঢেউ
আমার দুচোখে শ্রাবণের নদী বয়ে যায়;
যখন হঠাৎ দেখি ছেড়ে যাচ্ছি সবুজ পালের
নৌকো,
ছেড়ে যাচ্ছি ঘরের মেঝেতে আমার মায়ের
আঁকা
সারি সারি লক্ষ্মীর পা
বোবা চিৎকারে আর্তকণ্ঠে বলে উঠি হয়তো
তখনই-
তোমার বুকের মধ্যে আমাকে লুকিয়ে রাখো
আমি এই মাটি ছেড়ে, মাটির সান্নিধ্য ছেড়ে,
আকাশের আত্মীয়তা ছেড়ে,
চাই না কোথাও যেতে, কোথাও যেতে।
……………………………………..
মগ্নজীবন – মহাদেব সাহা
এই এটুকু জীবন আমি দিওয়ানার মতো
ঘুরেই কাটিয়ে দিতে পারি
দিগ্ভ্রান্ত নাবিকের মতো অকূল
সমুদ্রে পারি
ভাসাতে জাহাজ;
আমার সমগ্র সত্তা পারি আমি সম্পূর্ণ
বিলুপ্ত করে দিতে
কোনো সুফী আউলিয়ার মতো
ধ্যানের আলোয়,
ঝরা বকুলের
মতো পথে পথে নিজেকে ছড়াতে পারি আমি
ছেঁড়া কাগজের মতো এমনকি যত্রতত্র
ফেলে দিতে পারি,
এইভাবে ফেলতে ফেলতে ছড়াতে ছড়াতে এই
এটুকু জীবন
আমি পাড়ি দিতে চাই-
এই এটুকু জীবন আমি হেসে খেলে দুচোখের
জলে
ভালোবেসে, ভালোবাসা পেয়ে
কিংবা না পেয়ে
এভাবে কাটিয়ে দিতে চাই;
এই ছোট এটুকু জীবন আমি বংশীবাদকের
মতো
এভাবে কাটাতে পারি পথে পথে ঘুরে
উদাস পাখির মতো ভেসে যেতে পারি দূর
নীলিমায়
সুদূরের স্বপ্ন চোখে নিয়ে,
পারি আমি এটুকু জীবন নিশ্চিত
ডুবিয়ে দিতে গানের নদীতে
আনন্দধারায়,
এই তপ্ত এটুকু জীবন
আমি স্বচ্ছন্দে ভিজিয়ে নিতে পারি
পানপাত্রে-
ধুয়ে নিতে পারি এই জীবনের সব দুঃখ,
অপমান, গ্লানি,
এই পরাজয়, এই অপর ব্যর্থতা, এই অখণ্ড
বিরহ,
এই উপেক্ষার অনন্ত দিবসরাত্রি, এই
একা একা
নিভৃত জীবন;
এই এটুকু জীবন আমি নির্ঘাত
কাটিয়ে দিতে পারি
এভাবে ট্রেনের হুইসেল শুনে
উদাসীন পথিকের মতো পথে,
পর্বতারোহীর অদম্য নেশায়
আকাশে ঘুড়ির পানে চেয়ে;
এই মগ্ন জীবন আমি নাহয় নিঃসঙ্গ
কয়েদীর মতো
এভাবে কাটিয়ে দিয়ে যাই
অন্ধকারে, অন্ধকারে।
এই এটুকু জীবন আমি দিওয়ানার মতো
ঘুরেই কাটিয়ে দিতে পারি
দিগ্ভ্রান্ত নাবিকের মতো অকূল
সমুদ্রে পারি
ভাসাতে জাহাজ;
আমার সমগ্র সত্তা পারি আমি সম্পূর্ণ
বিলুপ্ত করে দিতে
কোনো সুফী আউলিয়ার মতো
ধ্যানের আলোয়,
ঝরা বকুলের
মতো পথে পথে নিজেকে ছড়াতে পারি আমি
ছেঁড়া কাগজের মতো এমনকি যত্রতত্র
ফেলে দিতে পারি,
এইভাবে ফেলতে ফেলতে ছড়াতে ছড়াতে এই
এটুকু জীবন
আমি পাড়ি দিতে চাই-
এই এটুকু জীবন আমি হেসে খেলে দুচোখের
জলে
ভালোবেসে, ভালোবাসা পেয়ে
কিংবা না পেয়ে
এভাবে কাটিয়ে দিতে চাই;
এই ছোট এটুকু জীবন আমি বংশীবাদকের
মতো
এভাবে কাটাতে পারি পথে পথে ঘুরে
উদাস পাখির মতো ভেসে যেতে পারি দূর
নীলিমায়
সুদূরের স্বপ্ন চোখে নিয়ে,
পারি আমি এটুকু জীবন নিশ্চিত
ডুবিয়ে দিতে গানের নদীতে
আনন্দধারায়,
এই তপ্ত এটুকু জীবন
আমি স্বচ্ছন্দে ভিজিয়ে নিতে পারি
পানপাত্রে-
ধুয়ে নিতে পারি এই জীবনের সব দুঃখ,
অপমান, গ্লানি,
এই পরাজয়, এই অপর ব্যর্থতা, এই অখণ্ড
বিরহ,
এই উপেক্ষার অনন্ত দিবসরাত্রি, এই
একা একা
নিভৃত জীবন;
এই এটুকু জীবন আমি নির্ঘাত
কাটিয়ে দিতে পারি
এভাবে ট্রেনের হুইসেল শুনে
উদাসীন পথিকের মতো পথে,
পর্বতারোহীর অদম্য নেশায়
আকাশে ঘুড়ির পানে চেয়ে;
এই মগ্ন জীবন আমি নাহয় নিঃসঙ্গ
কয়েদীর মতো
এভাবে কাটিয়ে দিয়ে যাই
অন্ধকারে, অন্ধকারে।
……………………………………..
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ - মহাদেব
সাহা
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই
আনন্দের জন্য আমি
সবকিছু মাথা পেতে নেবো,
যে কোনো দুঃখ, যে কোনো শাস্তি-
শুধু এই ভোরের একটু আলো দ্যাখার
জন্য
আমি পথের ভিক্ষুক হতে রাজি
এই যে গোলাপ ফুলটির
দিকে যতোক্ষণ খুশি
তাকিয়ে থাকতে পারি
এই সুখে আমি হাসিমুখে সব দুঃখ-
মাথা পেতে নেবো।
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই
আনন্দের কাছে
কোনো দুঃখই কিছু নয়
এই নির্বাসন, এই শাস্তি, এই
দ্বীপান্তর;
এই মেঘ, এই ঝুম বৃষ্টি, এই
শিশিরের শব্দের জন্য
আমি সহস্র বছরের কারাদন্ড-
মাথায় নিয়েও বেঁচে থাকতে চাই,
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই
আনন্দে সব
আঘাত আমি মাথা পেতে নেবো।
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই
আনন্দের জন্য আমি
সবকিছু মাথা পেতে নেবো,
যে কোনো দুঃখ, যে কোনো শাস্তি-
শুধু এই ভোরের একটু আলো দ্যাখার
জন্য
আমি পথের ভিক্ষুক হতে রাজি
এই যে গোলাপ ফুলটির
দিকে যতোক্ষণ খুশি
তাকিয়ে থাকতে পারি
এই সুখে আমি হাসিমুখে সব দুঃখ-
মাথা পেতে নেবো।
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই
আনন্দের কাছে
কোনো দুঃখই কিছু নয়
এই নির্বাসন, এই শাস্তি, এই
দ্বীপান্তর;
এই মেঘ, এই ঝুম বৃষ্টি, এই
শিশিরের শব্দের জন্য
আমি সহস্র বছরের কারাদন্ড-
মাথায় নিয়েও বেঁচে থাকতে চাই,
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই
আনন্দে সব
আঘাত আমি মাথা পেতে নেবো।
……………………………………..
তুমি ! -মহাদেব সাহা
আমার মাথায় জলভরা একটি আকাশ
তার নাম তুমি,
খর গ্রীষ্মে আমার উঠোনে অঝোর বর্ষণ
তুমি তার নাম;
ভীষণ তৃষ্ণার্ত এই পথিকের
ক্লান্ত চোখে সুশীতল মেঘ
একমাত্র তুমি-
দুপুরের খরতাপ শেষে আমার
জীবনে এই শান্ত সন্ধ্যা
তুমি, তুমি, তুমি;
মরুময় এই ভূপ্রকৃতি জুড়ে ঘন
প্রেইরীর সবুজ উদ্যান
তুমি তার নাম,
আমার ধূসর দুই চোখে চিরসবুজের
গাঢ় হাতছানি
তার নাম তুমি;
আমার স্মৃতির অববাহিকায়
একটি স্বপ্নের প্রিয় নদী
তুমি নিরবধি।
আমার মাথায় জলভরা একটি আকাশ
তার নাম তুমি,
খর গ্রীষ্মে আমার উঠোনে অঝোর বর্ষণ
তুমি তার নাম;
ভীষণ তৃষ্ণার্ত এই পথিকের
ক্লান্ত চোখে সুশীতল মেঘ
একমাত্র তুমি-
দুপুরের খরতাপ শেষে আমার
জীবনে এই শান্ত সন্ধ্যা
তুমি, তুমি, তুমি;
মরুময় এই ভূপ্রকৃতি জুড়ে ঘন
প্রেইরীর সবুজ উদ্যান
তুমি তার নাম,
আমার ধূসর দুই চোখে চিরসবুজের
গাঢ় হাতছানি
তার নাম তুমি;
আমার স্মৃতির অববাহিকায়
একটি স্বপ্নের প্রিয় নদী
তুমি নিরবধি।
……………………………………..
তাহলে কি ঢেকে যাবে পৃথিবীর মুখ মহাদেব
সাহা -
ভীষণ তুষার-ঝড় বয়ে যায় পৃথিবীর মানচিত্রে আজ
এই শতকের শেষে নামে শৈত্য, হিমপ্রবাহ এখানে
এশিয়া ও ইওরোপ কাঁপে শীতে, বৃক্ষপত্র ঝরে যায়
ইতিহাস থেকে টুপটাপ খরেস পড়ে পাতা;
এই ভয়ানক দুঃসময়ে কার দিকে বাড়াই বা হাত
বন্ধুরাই শত্রু এখন, হৃদয়েও জমেছে বরফ।
পরফে পড়েছে ঢাকা বার্চবন, তৃনভূমি, বার্লিনের ব্যতিত আকাশ,
মানুষের কীর্তিস্তম্ভ, মানবিক প্রীতি-ভালোবাসা-
অনেক আগেই ঢাকা পড়ে গেছে মূল্যবোধ নামক অধ্যায়,
অবশেষে বিম্বাস ও সাহসের জাহাজটি বরফে আটকে গেছে দূরে।
তাহলে কি পৃথিবীর মানচিত্রই ক্রমশ ঢেকে যাবে উত্তাল বরফে,
ঢেকে যাবে পৃথিবীর চোখ, মুখ, মাথা?
ভীষণ তুষার-ঝড় বয়ে যায় পৃথিবীর মানচিত্রে আজ
এই শতকের শেষে নামে শৈত্য, হিমপ্রবাহ এখানে
এশিয়া ও ইওরোপ কাঁপে শীতে, বৃক্ষপত্র ঝরে যায়
ইতিহাস থেকে টুপটাপ খরেস পড়ে পাতা;
এই ভয়ানক দুঃসময়ে কার দিকে বাড়াই বা হাত
বন্ধুরাই শত্রু এখন, হৃদয়েও জমেছে বরফ।
পরফে পড়েছে ঢাকা বার্চবন, তৃনভূমি, বার্লিনের ব্যতিত আকাশ,
মানুষের কীর্তিস্তম্ভ, মানবিক প্রীতি-ভালোবাসা-
অনেক আগেই ঢাকা পড়ে গেছে মূল্যবোধ নামক অধ্যায়,
অবশেষে বিম্বাস ও সাহসের জাহাজটি বরফে আটকে গেছে দূরে।
তাহলে কি পৃথিবীর মানচিত্রই ক্রমশ ঢেকে যাবে উত্তাল বরফে,
ঢেকে যাবে পৃথিবীর চোখ, মুখ, মাথা?
……………………………………..
তোমাকে ডাকার স্বাধীনতা মহাদেব
সাহা -
আজ এ-বৎসরের শেষ রবিবারে
সমস্ত শহর করে তোলপাড়
গ্রীসীয় যুবার মতো ভুঁড়ে দেবো শব্দের মাতাল নিনাদ
আমার প্রেমিকা, প্রিয়তমা নারী
উদ্দেশে তোমার;
তোমাকে ডাকবো আমি নির্লজ্জ গেঁয়োর মতো
সমবেত অগ্রজের মুখোমুখি বসে-
দীর্ঘদিন বলি না প্রেমিকা,
বলি না গোলাপ
কতোদিন আনি না মুখে প্রেয়সী নারীর নাম
যেন উচ্চারণে অস্পষ্ট শিশুর মতো
কতিপয় শব্দ ছিলো সীমাহীন দূরত্বে আমার,
আজ বর্ষণের রাতে আমি বুঝি প্রথম কৃষাণ
শতাব্দীর অকর্ষিত মাটি ভেদ করি
কতোদিন তোমাকে আনি না মুখে প্রেম,
প্রিয় স্বাধীনতা, রম্য গোলাপ
যুদ্ধক্ষেত্রে গ্রেনেডের শব্দে, মাইনের মুখর সঙ্গীতে
শত্রুর রণদামামায় শুনতাম কবিতার পরিচিত পঙ্ক্তি,
একঝাঁক রাইফেলের শব্দে ঝরে পড়ে অসংখ্য খুলির মালা
যেন প্রিয়ার হাতে রডোডেনড্রনগুচ্ছ
আজ এ-বৎসরের শেষ রবিবারে, যুদ্ধ শেষে
তোমাকে ডাকার স্বাধীনতা
প্রিয়তমা প্রেমিকা আমার!
আজ এ-বৎসরের শেষ রবিবারে
সমস্ত শহর করে তোলপাড়
গ্রীসীয় যুবার মতো ভুঁড়ে দেবো শব্দের মাতাল নিনাদ
আমার প্রেমিকা, প্রিয়তমা নারী
উদ্দেশে তোমার;
তোমাকে ডাকবো আমি নির্লজ্জ গেঁয়োর মতো
সমবেত অগ্রজের মুখোমুখি বসে-
দীর্ঘদিন বলি না প্রেমিকা,
বলি না গোলাপ
কতোদিন আনি না মুখে প্রেয়সী নারীর নাম
যেন উচ্চারণে অস্পষ্ট শিশুর মতো
কতিপয় শব্দ ছিলো সীমাহীন দূরত্বে আমার,
আজ বর্ষণের রাতে আমি বুঝি প্রথম কৃষাণ
শতাব্দীর অকর্ষিত মাটি ভেদ করি
কতোদিন তোমাকে আনি না মুখে প্রেম,
প্রিয় স্বাধীনতা, রম্য গোলাপ
যুদ্ধক্ষেত্রে গ্রেনেডের শব্দে, মাইনের মুখর সঙ্গীতে
শত্রুর রণদামামায় শুনতাম কবিতার পরিচিত পঙ্ক্তি,
একঝাঁক রাইফেলের শব্দে ঝরে পড়ে অসংখ্য খুলির মালা
যেন প্রিয়ার হাতে রডোডেনড্রনগুচ্ছ
আজ এ-বৎসরের শেষ রবিবারে, যুদ্ধ শেষে
তোমাকে ডাকার স্বাধীনতা
প্রিয়তমা প্রেমিকা আমার!
……………………………………..
তোমাকে যাইনি ছেড়ে মহাদেব
সাহা -
তোমাকে যাইনি ছেড়ে আম-জাম
কাঁঠালের বন,
অশ্বত্থ-হিজল-বট, ঘুঘু-ডাকা চৈত্রের দুপুর-
এই খেয়াঘাট পার হয়ে কতো আত্মীয়-বান্ধব
চলে গেছে,
এই গাঁয়ের হালট ধরে চলে গেছে নয়াদা
ও রাঙা বৌদি
আঁচলে চোখের জল মুছতে মুছতে
কাকিমা ও তার কিশোরী মেয়েটি;
সেই কবে মামাদের এতো বড়ো রায়বাড়ি
শূন্য হয়ে গেছে-
শিশুদি ও উষা পিসিমার কথা আজকাল
বড়ো মনে পড়ে যায়-
তারা কে এখন কোথায় আছেন, শুনেছি
কয়েক বছর আগে শিলিগুড়িতে গত হয়েছেন
আমার জেঠতুতো বড়ো ভাই,
শৈশবের সেইসব সঙ্গী, কতো প্রিয় মুখ
এভাবে এখন দূর স্মৃতি হয়ে গেছে;
তবু তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই, কার
ভয়ে, কার রক্তচক্ষু দেখে,
লোমশ নখর দেখে বলো-
একুশের বইমেলা, শহীদ মিনার,
পয়লা বৈশাখের বটমূল, রমনার মাঠ-
আমার কতো যে প্রিয় তুমি এই বঙ্গোপসাগর,
করতোয়া, ফুলজোড়, অথই উদাস বির,
পুকুরের শাদা রাজহাঁস,
নিবিড় বটের ছায়া, ঘন বাঁশবন।
তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই পিতার সমাধি
বন্ধুর কবর, আজানের ধ্বনি
বাউলের ভজন্তকীর্তন্ত
তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই ধানক্ষেত, মেঠোপথ,
স্বদেশের সবুজ মানচিত্র,
তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই প্রিয় নদী,
প্রিয় ঘাস, ফুল।
তোমাকে যাইনি ছেড়ে আম-জাম
কাঁঠালের বন,
অশ্বত্থ-হিজল-বট, ঘুঘু-ডাকা চৈত্রের দুপুর-
এই খেয়াঘাট পার হয়ে কতো আত্মীয়-বান্ধব
চলে গেছে,
এই গাঁয়ের হালট ধরে চলে গেছে নয়াদা
ও রাঙা বৌদি
আঁচলে চোখের জল মুছতে মুছতে
কাকিমা ও তার কিশোরী মেয়েটি;
সেই কবে মামাদের এতো বড়ো রায়বাড়ি
শূন্য হয়ে গেছে-
শিশুদি ও উষা পিসিমার কথা আজকাল
বড়ো মনে পড়ে যায়-
তারা কে এখন কোথায় আছেন, শুনেছি
কয়েক বছর আগে শিলিগুড়িতে গত হয়েছেন
আমার জেঠতুতো বড়ো ভাই,
শৈশবের সেইসব সঙ্গী, কতো প্রিয় মুখ
এভাবে এখন দূর স্মৃতি হয়ে গেছে;
তবু তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই, কার
ভয়ে, কার রক্তচক্ষু দেখে,
লোমশ নখর দেখে বলো-
একুশের বইমেলা, শহীদ মিনার,
পয়লা বৈশাখের বটমূল, রমনার মাঠ-
আমার কতো যে প্রিয় তুমি এই বঙ্গোপসাগর,
করতোয়া, ফুলজোড়, অথই উদাস বির,
পুকুরের শাদা রাজহাঁস,
নিবিড় বটের ছায়া, ঘন বাঁশবন।
তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই পিতার সমাধি
বন্ধুর কবর, আজানের ধ্বনি
বাউলের ভজন্তকীর্তন্ত
তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই ধানক্ষেত, মেঠোপথ,
স্বদেশের সবুজ মানচিত্র,
তোমাকে কেমন করে ছেড়ে যাই প্রিয় নদী,
প্রিয় ঘাস, ফুল।
……………………………………..
তোমার প্রেমিক মহাদেব
সাহা -
এখানে প্রেমিক নেই আমি ছাড়া
সর্বক্ষণ উদ্যত পুরুষ
হাতে যার যুদ্ধজয়ী পিতার কৃপাণ
হুলস্তুল মধ্যরাতে
যখন পাল্টে যায় সবুজ দেয়াল
ছত্রখান হয়ে ভেঙে পড়ে অট্টালিকা, চাঁদ
কে পারে বদলে দিতে সে রাত্রিকে ফের
দিনের সমান
সে তোমার গোপন প্রেমিক;
তুমি তাকে চেনো না তেমন ভালোভাবে
তাকে তুমি দেখো নাই ক্রোধে কম্পমান
দীর্ঘতর হতে,
যে পারে আমূল এনে তোমাকে বসাতে
মধ্যস্তলে, জ্বেলে দিয়ে হাজার প্রদীপ
সে তোমার গোপন প্রেমিক;
তাকে তুমি দেখো নাই জ্যোৎ্লাহীন
খোলা মাঠে,
অন্ধকারে দুরন্ত গেরিলা
দেখো নাই তাকে তুমি সুতীক্ষ্ণ ব্যারেল খুলে
লক্ষ্যভেদী অব্যর্থ অর্জুন
সে তোমার ভীষণ প্রেমিক;
কে পারে রক্তাক্ত করোটি থেকে
পুনরায় জন্ম দিতে সভ্যতার মাটি
ইতিহাস সম্ভাবনাময় পথে
নেমে আসে কার ডাকে খোলে স্তব্ধ
শতাব্দীর নিরেট কপাট
আর কেউ নয়
সে তোমার জেদী উদ্ধত প্রেমিক;
সে জানে আদিম সত্য
ভালোবেসে পরাজয় নেই,
চষা ক্ষেতে উলঙ্গ কৃষাণ যেন কৃষাণীকে
করে তোলে শস্যময় অগাধ সবুজ
সে তোমার অবাধ্য প্রেমিক;
তাকে তুমি চোখ তুলে দেখো
সে এসেছে যদ্ধজয়ী যুবরাজ
আর কেউ নয়, এই আমি
সে তোমার গোপন প্রেমিক।
এখানে প্রেমিক নেই আমি ছাড়া
সর্বক্ষণ উদ্যত পুরুষ
হাতে যার যুদ্ধজয়ী পিতার কৃপাণ
হুলস্তুল মধ্যরাতে
যখন পাল্টে যায় সবুজ দেয়াল
ছত্রখান হয়ে ভেঙে পড়ে অট্টালিকা, চাঁদ
কে পারে বদলে দিতে সে রাত্রিকে ফের
দিনের সমান
সে তোমার গোপন প্রেমিক;
তুমি তাকে চেনো না তেমন ভালোভাবে
তাকে তুমি দেখো নাই ক্রোধে কম্পমান
দীর্ঘতর হতে,
যে পারে আমূল এনে তোমাকে বসাতে
মধ্যস্তলে, জ্বেলে দিয়ে হাজার প্রদীপ
সে তোমার গোপন প্রেমিক;
তাকে তুমি দেখো নাই জ্যোৎ্লাহীন
খোলা মাঠে,
অন্ধকারে দুরন্ত গেরিলা
দেখো নাই তাকে তুমি সুতীক্ষ্ণ ব্যারেল খুলে
লক্ষ্যভেদী অব্যর্থ অর্জুন
সে তোমার ভীষণ প্রেমিক;
কে পারে রক্তাক্ত করোটি থেকে
পুনরায় জন্ম দিতে সভ্যতার মাটি
ইতিহাস সম্ভাবনাময় পথে
নেমে আসে কার ডাকে খোলে স্তব্ধ
শতাব্দীর নিরেট কপাট
আর কেউ নয়
সে তোমার জেদী উদ্ধত প্রেমিক;
সে জানে আদিম সত্য
ভালোবেসে পরাজয় নেই,
চষা ক্ষেতে উলঙ্গ কৃষাণ যেন কৃষাণীকে
করে তোলে শস্যময় অগাধ সবুজ
সে তোমার অবাধ্য প্রেমিক;
তাকে তুমি চোখ তুলে দেখো
সে এসেছে যদ্ধজয়ী যুবরাজ
আর কেউ নয়, এই আমি
সে তোমার গোপন প্রেমিক।
……………………………………..
না-লেখা কবিতাগুলি
মহাদেব সাহা -
পথে পথে ঘুরে দেখি না, না, হারিয়ে যায়নি
একটিও না-লেখা কবিতা-
আছে আগুনে, ইথারে, বাষ্পে,
বকটি মৌলিক পদার্থে,
ণক্ষেত্রে, সমুদ্রে, আকামে আছে এই না-লেখা কবিতা।
দেখি তাকে কারো চোখে হয়ে আছে দুফোঁটা
নিবিড় অশ্রু,
কারো বুকে অবিরাম তপ্ত দীর্ঘশ্বাস্ত
কোথাওবা ফুটে আছে সবচেয়ে সুদৃশ্য গোলাপ
সূনীল আকাশে রাশি রাশি তারা;
সব মানুষের বুকের ভেতরে আছে যে অনন্ত ফল্গুধারা
স্বচ্ছ সরোবর, স্নেহমমতার স্বর্ণখনি
অলিখিত আমার কবিতাগুলি সেই নায়েগ্রার জলের প্রপাত
এই না-লেখা কবিতা দেখি মাঝে মাঝে একাকী ঝর্নার জলে
ভেজায় বিশুস্ক কণ্ঠ যেন তৃষ্ণার্ত হরিণ,
যা কিছু সুন্দর, অপরূপ, কদাকার
তার দিকে তাকিয়েও মনে হয় একেকটি না-লেখা কবিতা;
তারা কখনো দেকেনি মুখ আলো-বাতাসের
কোথায় যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কোথাওবা
হয়ে আছে সবুজ প্রেইরী,
কোথাওবা ছায়াঘেরা শান্ত বনস্পতি, এই না-লেখা কবিতা।
একটিও না-লেখা কবিতা-
আছে আগুনে, ইথারে, বাষ্পে,
বকটি মৌলিক পদার্থে,
ণক্ষেত্রে, সমুদ্রে, আকামে আছে এই না-লেখা কবিতা।
দেখি তাকে কারো চোখে হয়ে আছে দুফোঁটা
নিবিড় অশ্রু,
কারো বুকে অবিরাম তপ্ত দীর্ঘশ্বাস্ত
কোথাওবা ফুটে আছে সবচেয়ে সুদৃশ্য গোলাপ
সূনীল আকাশে রাশি রাশি তারা;
সব মানুষের বুকের ভেতরে আছে যে অনন্ত ফল্গুধারা
স্বচ্ছ সরোবর, স্নেহমমতার স্বর্ণখনি
অলিখিত আমার কবিতাগুলি সেই নায়েগ্রার জলের প্রপাত
এই না-লেখা কবিতা দেখি মাঝে মাঝে একাকী ঝর্নার জলে
ভেজায় বিশুস্ক কণ্ঠ যেন তৃষ্ণার্ত হরিণ,
যা কিছু সুন্দর, অপরূপ, কদাকার
তার দিকে তাকিয়েও মনে হয় একেকটি না-লেখা কবিতা;
তারা কখনো দেকেনি মুখ আলো-বাতাসের
কোথায় যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কোথাওবা
হয়ে আছে সবুজ প্রেইরী,
কোথাওবা ছায়াঘেরা শান্ত বনস্পতি, এই না-লেখা কবিতা।
……………………………………..
মন ভালো নেই মহাদেব
সাহা -
বিষাদ ছুঁয়েছে আজ, মন ভালো নেই,
মন ভালো নেই;
ফাঁকা রাস্তা, শূন্য বারান্দা
সারাদিন ডাকি সাড়া নেই,
একবার ফিরেও চায় না কেউ
পথ ভুলকরে চলে যায়, এদিকে আসে না
আমি কি সহস্র সহস্র বর্ষ এভাবে
তাকিয়ে থাকবো শূন্যতার দিকে?
এই শূন্য ঘরে, এই নির্বসনে
কতোকাল, আর কতোকাল!
আজ দুঃখ ছুঁয়েছে ঘরবাড়ি,
উদ্যানে উঠেচে ক্যাকটাস্
কেউ নেই, কড়া নাড়ার মতো কেউ নেই,
শুধু শূন্যতার এই দীর্ঘশ্বাস, এই দীর্ঘ পদধ্বনি।
টেলিফোন ঘোরাতে ঘোরাতে আমি ক্লান্ত
ডাকতে ডাকতে একশেষ;
কেউ ডাক শোনে না, কেউ ফিরে তাকায় না
এই হিমঘরে ভাঙা চেয়ারে একা বসে আছি।
এ কী শান্তি তুমি আমাকে দিচ্ছো ঈশ্বর,
এভাবে দগ্ধ হওয়ার নাম কি বেঁচে থাকা!
তবু মানুষ বেঁচে থাকতে চায়, আমি বেঁচে থাকতে চাই
আমি ভালোবাসতে চাই, পাগলের মতো
ভালোবাসতে চাই-
এই কি আমার অপরাধ!
আজ বিষাদ ছুঁয়েছে বুক, বিষাদ ছুঁয়েছে বুক
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই;
তোমার আসার কথা ছিলো, তোমার যাওয়ার
কথা ছিল-
আসা-যাওয়ার পথের ধারে
ফুল ফোটানো কথা ছিলো
সেসব কিছুই হলো না, কিছুই হলো না;
আমার ভেতরে শুধু এক কোটি বছর ধরে অশ্রুপাত
শুধু হাহাকার
শুধু শূন্যতা, শূন্যতা।
তোমার শূন্য পথের দিকে তাকাতে তাকাতে
দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেলো,
সব নদীপথ বন্ধ হলো, তোমার সময় হলো না-
আজ সারাদিন বিষাদপর্ব, সারাদিন তুষারপাত-
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই।
বিষাদ ছুঁয়েছে আজ, মন ভালো নেই,
মন ভালো নেই;
ফাঁকা রাস্তা, শূন্য বারান্দা
সারাদিন ডাকি সাড়া নেই,
একবার ফিরেও চায় না কেউ
পথ ভুলকরে চলে যায়, এদিকে আসে না
আমি কি সহস্র সহস্র বর্ষ এভাবে
তাকিয়ে থাকবো শূন্যতার দিকে?
এই শূন্য ঘরে, এই নির্বসনে
কতোকাল, আর কতোকাল!
আজ দুঃখ ছুঁয়েছে ঘরবাড়ি,
উদ্যানে উঠেচে ক্যাকটাস্
কেউ নেই, কড়া নাড়ার মতো কেউ নেই,
শুধু শূন্যতার এই দীর্ঘশ্বাস, এই দীর্ঘ পদধ্বনি।
টেলিফোন ঘোরাতে ঘোরাতে আমি ক্লান্ত
ডাকতে ডাকতে একশেষ;
কেউ ডাক শোনে না, কেউ ফিরে তাকায় না
এই হিমঘরে ভাঙা চেয়ারে একা বসে আছি।
এ কী শান্তি তুমি আমাকে দিচ্ছো ঈশ্বর,
এভাবে দগ্ধ হওয়ার নাম কি বেঁচে থাকা!
তবু মানুষ বেঁচে থাকতে চায়, আমি বেঁচে থাকতে চাই
আমি ভালোবাসতে চাই, পাগলের মতো
ভালোবাসতে চাই-
এই কি আমার অপরাধ!
আজ বিষাদ ছুঁয়েছে বুক, বিষাদ ছুঁয়েছে বুক
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই;
তোমার আসার কথা ছিলো, তোমার যাওয়ার
কথা ছিল-
আসা-যাওয়ার পথের ধারে
ফুল ফোটানো কথা ছিলো
সেসব কিছুই হলো না, কিছুই হলো না;
আমার ভেতরে শুধু এক কোটি বছর ধরে অশ্রুপাত
শুধু হাহাকার
শুধু শূন্যতা, শূন্যতা।
তোমার শূন্য পথের দিকে তাকাতে তাকাতে
দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেলো,
সব নদীপথ বন্ধ হলো, তোমার সময় হলো না-
আজ সারাদিন বিষাদপর্ব, সারাদিন তুষারপাত-
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই।
……………………………………..
যদুবংশ ধ্বংসের আগে মহাদেব
সাহা -
এ কী বৈরী যুগে এসে দাঁড়ালাম আমরা সকলে
সূর্য নিয়ত ঢাকা চিররাহৃগ্রাসে, মানবিক
প্রশান্ত বাতাস এখন বয় না কোনোখানে
শুধু সর্বত্র বেড়ায় নেচে কবন্ধ-দানব;
তাদের কদর্য বেড়ায় নেচে কবন্ধ-দানব;
তাদের কদর্য চিৎকারে ফেটে যায় কান,
চোখ হয়ে যায় কী ভীষণ রক্তজবা, সহসা
দিগন্ত জুড়ে নেমে আসে ঘোর সন্ধ্যার আঁধার।
কিছুই যায় না দেখা চোখে, নিঃশ্বাসও
হয়ে ওঠে পাথরের মতো ভারী, যেন কোনো
পাতালপুরীতে পড়ে আছি নিঃসঙ্গ কয়েদী;
এখানে সতত দেখি কোনো এক
দ্বিপদ প্রাণীর বিচরণ, মানুষের মতো, কখনো
মানুষ নয়, এই ছায়া-মানুষের পাশে
দিন কাটে, রাত্রি শেষ হয়, পাই না তৃষ্ণার
এক ফোঁটা জল, একটু শীতল ছায়া,
মনে হয় কোনোদিন নিভবে না এই দোজখের নৃশংস আগুন।
এ কোন ঘাতক-যুগে এসে দাঁড়ালাম আমরা সবাই,
তবে কি এসব কিছু যদুবংশ ধ্বংসেরই আগের নিশানা।
এ কী বৈরী যুগে এসে দাঁড়ালাম আমরা সকলে
সূর্য নিয়ত ঢাকা চিররাহৃগ্রাসে, মানবিক
প্রশান্ত বাতাস এখন বয় না কোনোখানে
শুধু সর্বত্র বেড়ায় নেচে কবন্ধ-দানব;
তাদের কদর্য বেড়ায় নেচে কবন্ধ-দানব;
তাদের কদর্য চিৎকারে ফেটে যায় কান,
চোখ হয়ে যায় কী ভীষণ রক্তজবা, সহসা
দিগন্ত জুড়ে নেমে আসে ঘোর সন্ধ্যার আঁধার।
কিছুই যায় না দেখা চোখে, নিঃশ্বাসও
হয়ে ওঠে পাথরের মতো ভারী, যেন কোনো
পাতালপুরীতে পড়ে আছি নিঃসঙ্গ কয়েদী;
এখানে সতত দেখি কোনো এক
দ্বিপদ প্রাণীর বিচরণ, মানুষের মতো, কখনো
মানুষ নয়, এই ছায়া-মানুষের পাশে
দিন কাটে, রাত্রি শেষ হয়, পাই না তৃষ্ণার
এক ফোঁটা জল, একটু শীতল ছায়া,
মনে হয় কোনোদিন নিভবে না এই দোজখের নৃশংস আগুন।
এ কোন ঘাতক-যুগে এসে দাঁড়ালাম আমরা সবাই,
তবে কি এসব কিছু যদুবংশ ধ্বংসেরই আগের নিশানা।
……………………………………..
তুমি যখন প্রশ্ন করো মহাদেব
সাহা -
তুমি যখন প্রশ্ন করো
আমি কি তোমায় ভালোবাসি?
অন্ধকারে লুকিয়ে মুখ
আমি নিজের মনেই হাসি ।
উত্তরে কি বলবো বলো
বিশ্বকোষেও হয়তো নাই,
উথালপাথাল খুঁজে মরি
কোথায় যোগ্য শব্দ পাই ।
জানো কি এই প্রশ্নে তোমার
হঠাত্ থামে নদীর ধারা
আকাশখানি কালো করে
মেঘে ঢাকা সন্ধ্যাতারা ।
তার চেয়েও গভীর ঘন
লজ্জা ঢাকে আমার মুখ
পাইনে খুঁজে একটি কথাও
শঙ্কা ভয়ে কাঁপে বুক ।
এতোদিনেও বোঝেনি যে
আজ বোঝাবো কোন ভরসায়?
না বলা সেই ছোট্টো কথা
বলিনি কি কোনো ভাষায়?
বলিনি কি এই কথাটি
তোমার দিকে নীরব চেয়ে,
এই গান কি সারাজীবন
জীবন দিয়ে যাইনি গেয়ে?
সেই কথা তো জানে ভালো
শিশির ভেজা ভোরের ফুল
তুমি যখন প্রশ্ন করো
আমি করি অধিক ভুল; ।
তুমি যখন প্রশ্ন করো
আমি কি তোমায় ভালোবাসি?
অন্ধকারে লুকিয়ে মুখ
আমি নিজের মনেই হাসি ।
উত্তরে কি বলবো বলো
বিশ্বকোষেও হয়তো নাই,
উথালপাথাল খুঁজে মরি
কোথায় যোগ্য শব্দ পাই ।
জানো কি এই প্রশ্নে তোমার
হঠাত্ থামে নদীর ধারা
আকাশখানি কালো করে
মেঘে ঢাকা সন্ধ্যাতারা ।
তার চেয়েও গভীর ঘন
লজ্জা ঢাকে আমার মুখ
পাইনে খুঁজে একটি কথাও
শঙ্কা ভয়ে কাঁপে বুক ।
এতোদিনেও বোঝেনি যে
আজ বোঝাবো কোন ভরসায়?
না বলা সেই ছোট্টো কথা
বলিনি কি কোনো ভাষায়?
বলিনি কি এই কথাটি
তোমার দিকে নীরব চেয়ে,
এই গান কি সারাজীবন
জীবন দিয়ে যাইনি গেয়ে?
সেই কথা তো জানে ভালো
শিশির ভেজা ভোরের ফুল
তুমি যখন প্রশ্ন করো
আমি করি অধিক ভুল; ।
……………………………………..
সেসব কিছুই আর মনে নেই —
মহাদেব সাহা
আমার কাছে কেউ কেউ জানতে চায়
পৃথিবীর কোন নারীকে আমি প্রথম ভালোবাসি,
কেউ কেউ জানতে চায় কাকে আমি প্রথম
চিঠি লিখি,
কেউ বলে, প্রথম গোপনে কোন
নামটি আমি লিখে রেখেছিলাম;
প্রথম আমি কী দেখে মুগ্ধ হই, প্রথম কার
হাত ধরি
আমার প্রথম স্মৃতির এই সব
প্রশ্নে আমি ঠিক কিছুই
বলতে পারি না, বোকার
মতো চেয়ে থাকি।
প্রথম অশ্রুবিন্দুর কথা কার মনে থাকে,
তারপর এতো বৃষ্টি এতো বর্ষা
মাটির শ্লেটে প্রথম যে অক্ষর
লিখেছিলাম আমি
তা আর কিছুতেই
কারো কাছে বলা যাবে না,
প্রথম কবে সেই রাজহাঁসটিকে বুকের
মধ্যে জড়িয়ে ধরেছিলাম
সেই শিহরণ কবে বাতাসে মিশে গেছে,
পুকুরপাড়ের ঘাটলার সিঁড়িতে যে নাম
প্রথম খোদাই করেছিলাম আমি,
এতোদিনে চোখের জলে তার
কোনো চিহ্নই আর নেই
আমি সেই আদ্যক্ষর কী করে দেখাব?
আমি কী করে দেখাব প্রথম স্বপ্ন
দেখে আমি
কীভাবে সারারাত কেঁদেছিলাম,
ভালোবাসা কথাটা প্রথম
বলতে গিয়ে কত লক্ষবার
মুখ ঢেকেছি আমি,
প্রথম কবে আমি বর্ষণ দেখলাম
পৃথিবীতে
কবে প্রথম পাখির ডাক শুনলাম,
সন্ধ্যাতারা দেখলাম
না, না, সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই
কারোরই মনে থাকে না।
কবে কে আমার হাতে লুকিয়ে
একটি গোলাপ ফুল দিয়েছিল
বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছিল
একখানা লাজুক চিঠি,
কে বলেছিল কানের কাছে কোকিলের
মতো মাতাল করা একটি শব্দ!
সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই,
মনে নেই।
আমার কাছে কেউ কেউ জানতে চায়
পৃথিবীর কোন নারীকে আমি প্রথম ভালোবাসি,
কেউ কেউ জানতে চায় কাকে আমি প্রথম
চিঠি লিখি,
কেউ বলে, প্রথম গোপনে কোন
নামটি আমি লিখে রেখেছিলাম;
প্রথম আমি কী দেখে মুগ্ধ হই, প্রথম কার
হাত ধরি
আমার প্রথম স্মৃতির এই সব
প্রশ্নে আমি ঠিক কিছুই
বলতে পারি না, বোকার
মতো চেয়ে থাকি।
প্রথম অশ্রুবিন্দুর কথা কার মনে থাকে,
তারপর এতো বৃষ্টি এতো বর্ষা
মাটির শ্লেটে প্রথম যে অক্ষর
লিখেছিলাম আমি
তা আর কিছুতেই
কারো কাছে বলা যাবে না,
প্রথম কবে সেই রাজহাঁসটিকে বুকের
মধ্যে জড়িয়ে ধরেছিলাম
সেই শিহরণ কবে বাতাসে মিশে গেছে,
পুকুরপাড়ের ঘাটলার সিঁড়িতে যে নাম
প্রথম খোদাই করেছিলাম আমি,
এতোদিনে চোখের জলে তার
কোনো চিহ্নই আর নেই
আমি সেই আদ্যক্ষর কী করে দেখাব?
আমি কী করে দেখাব প্রথম স্বপ্ন
দেখে আমি
কীভাবে সারারাত কেঁদেছিলাম,
ভালোবাসা কথাটা প্রথম
বলতে গিয়ে কত লক্ষবার
মুখ ঢেকেছি আমি,
প্রথম কবে আমি বর্ষণ দেখলাম
পৃথিবীতে
কবে প্রথম পাখির ডাক শুনলাম,
সন্ধ্যাতারা দেখলাম
না, না, সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই
কারোরই মনে থাকে না।
কবে কে আমার হাতে লুকিয়ে
একটি গোলাপ ফুল দিয়েছিল
বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছিল
একখানা লাজুক চিঠি,
কে বলেছিল কানের কাছে কোকিলের
মতো মাতাল করা একটি শব্দ!
সেসব কিছুই আর আমার মনে নেই,
মনে নেই।
……………………………………..
তুমি মুখ তুলে চাওনি বলে - মহাদেব সাহা
তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই দেখো আমি
সব কাজে মনোযোগহীন
সবখানে খাপছাড়া ;
তাই বহুদিন কবিতাও পড়ে আছে অসম্পূর্ণ
একটি পঙক্তি মেলানো হয়নি আর
তুমি ফিরে তাকাওনি বলে,
কতো প্রগাঢ় ইমেজ ঝরে গেছে তোমার
সামান্যতম স্নেহের অভাবে ।
তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে
কিভাবে যে ক্ষয়ে গেছি অন্তরে-বাহিরে
কিভাবে যে হয়ে গেছি নিঃস্ব, রিক্ত, উদ্দামহীন
শুধু তোমার উপেক্ষা পেয়ে উৎসাহে পরেছে ভাটা,
পরাজয় মেনেছি এভাবে
সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নিজেই
নিয়েছি তুলে লজ্জার মুখোশ ।
ধীরে ধীরে অন্তরালে চলে গেছি সকলের
অজ্ঞাতসারেই,
কাউকে বলিনি কিছু, বুঝতে দেইনি এই গোপন
ব্যর্থতা
শুধু আমি জানি তোমার করুনাধারা ছাড়া
এ জীবনে ফুটবে না মুগ্ধ কিশলয়
মাথায় উঠবে না কোনো জয়ের শিরোপা,
আমার গলায় কেউ পরাবে না গৌরবের মালা ;
তোমার সযত্ন পরিচর্যা ব্যতিরেকে
বলো নিরাময় হয়েছে কখন কার ক্ষত?
তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে রৌদ্রদগ্ধ হয়ে গেছে
হৃদয়ের ঘন বনাঞ্চল
বর্ষণ-অভাবে সেখানে দিয়েছে দেখা ব্যধি ও মড়ক,
একমাত্র তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে
এই গ্লানি এই পরাজয় ।
দিনরাত্রি হয়ে গেছে উসকো-খুসকো,
এলোমেলো, সঙ্গতিবিহীন
কিছুই মেলে না আর
সবখানে থেকে যায় একটা না একটা ছেঁড়া তার ;
তাই আমাকে বেড়াতে হয় দেশে দেশে
কান্না ছাড়া আর কোন ঠিকানাও নেই ।
শুধু তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে রয়ে গেছি
সবার পশ্চাতে
কোথাও পাইনি ঠাই,
সকলের কাছে উপেক্ষিত;
এমনকি যতটা হেঁটেছি পথ,
বিপদের মুখে ভেঙ্গেছি চড়াই
সে কথাও কেউ কখনো বোঝেনি ।
একমাত্র তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই
ভিতরে-বাহিরে এই অপার ব্যর্থতা
শুধু তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই
মরুভূমি গ্রাস করে এখন আমাকে
সব কাজে মনোযোগহীন
সবখানে খাপছাড়া ;
তাই বহুদিন কবিতাও পড়ে আছে অসম্পূর্ণ
একটি পঙক্তি মেলানো হয়নি আর
তুমি ফিরে তাকাওনি বলে,
কতো প্রগাঢ় ইমেজ ঝরে গেছে তোমার
সামান্যতম স্নেহের অভাবে ।
তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে
কিভাবে যে ক্ষয়ে গেছি অন্তরে-বাহিরে
কিভাবে যে হয়ে গেছি নিঃস্ব, রিক্ত, উদ্দামহীন
শুধু তোমার উপেক্ষা পেয়ে উৎসাহে পরেছে ভাটা,
পরাজয় মেনেছি এভাবে
সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নিজেই
নিয়েছি তুলে লজ্জার মুখোশ ।
ধীরে ধীরে অন্তরালে চলে গেছি সকলের
অজ্ঞাতসারেই,
কাউকে বলিনি কিছু, বুঝতে দেইনি এই গোপন
ব্যর্থতা
শুধু আমি জানি তোমার করুনাধারা ছাড়া
এ জীবনে ফুটবে না মুগ্ধ কিশলয়
মাথায় উঠবে না কোনো জয়ের শিরোপা,
আমার গলায় কেউ পরাবে না গৌরবের মালা ;
তোমার সযত্ন পরিচর্যা ব্যতিরেকে
বলো নিরাময় হয়েছে কখন কার ক্ষত?
তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে রৌদ্রদগ্ধ হয়ে গেছে
হৃদয়ের ঘন বনাঞ্চল
বর্ষণ-অভাবে সেখানে দিয়েছে দেখা ব্যধি ও মড়ক,
একমাত্র তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে
এই গ্লানি এই পরাজয় ।
দিনরাত্রি হয়ে গেছে উসকো-খুসকো,
এলোমেলো, সঙ্গতিবিহীন
কিছুই মেলে না আর
সবখানে থেকে যায় একটা না একটা ছেঁড়া তার ;
তাই আমাকে বেড়াতে হয় দেশে দেশে
কান্না ছাড়া আর কোন ঠিকানাও নেই ।
শুধু তুমি মুখ তুলে তাকাওনি বলে রয়ে গেছি
সবার পশ্চাতে
কোথাও পাইনি ঠাই,
সকলের কাছে উপেক্ষিত;
এমনকি যতটা হেঁটেছি পথ,
বিপদের মুখে ভেঙ্গেছি চড়াই
সে কথাও কেউ কখনো বোঝেনি ।
একমাত্র তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই
ভিতরে-বাহিরে এই অপার ব্যর্থতা
শুধু তুমি মুখ তুলে চাওনি বলেই
মরুভূমি গ্রাস করে এখন আমাকে
……………………………………..
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন