শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর কবিতা


 


চতুর্দশপদী কবিতাবলী - শক্তি চট্টোপাধ্যায়
 
ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো
যেদিকে দুচোখ যায় যেতে তার খুশি লাগে খুব
ভালোবাসা পেলে আমি কেন পায়সান্ন খাবো
যা খায় গরিবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে
ভালোবাসা পেলে আমি গায়ের সমস্ত মুগ্ধকারী
আবরণ খুলে ফেলে দৌড় ঝাঁপ করবো কড়া রোদে...
ভালোবাসা পেলে জানি সব হবে না পেলে তোমায়
আমি কি বোবার মতো বসে থাকবো
ভালোবাসা না পেলে কি আমার এমনি দিন যাবে
চোরের মতন, কিংবা হাহাকারে সোচ্চার , বিমনা
আমি কি ভীষণ ভাবে তাকে চাই ভালোবাসা জানে।
﹋﹌﹋﹌﹋﹋﹌﹋﹌﹋﹌﹌﹋﹌



একবার তুমি - শক্তি চট্টোপাধ্যায়

একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো
দেখবে, নদীর ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদীসমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো

বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
সমস্ত পায়েহাঁটা পথই যখন পিচ্ছিল, তখন ওই পাথরের পাল একের পর এক বিছিয়ে
যেন কবিতার নগ্ন ব্যবহার , যেন ঢেউ, যেন কুমোরটুলির সালমাচুমকি জরিমাখা প্রতিমা
বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটে নক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত দেখে আসতে পারি

বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল
চিঠিপত্রের বাক্স বলতে তো কিছু নেই  পাথরের ফাঁক  ফোকরে রেখে এলেই কাজ হাসিল
অনেক সময়তো ঘর গড়তেও মন চায়

মাছের বুকের পাথর ক্রমেই আমাদের বুকে এসে জায়গা করে নিচ্ছে
আমাদের সবই দরকার আমরা ঘরবাড়ি গড়বো  সভ্যতার একটা স্থায়ী স্তম্ভ তুলে ধরবো
রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলে
একবার তুমি ভলবাসতে চেষ্টা করো
﹋﹌﹋﹌﹋﹋﹌﹋﹌﹋﹌﹌﹋﹌



এক অসুখে দুজন অন্ধ - শক্তি চট্টোপাধ্যায়
 
আজ বাতাসের সঙ্গে ওঠে, সমুদ্র, তোর আমিষ গন্ধ
দীর্ঘ দাঁতের করাত ঢেউ নীল দিগন্ত সমান করে
বালিতে আধকোমর বন্ধ
এই আনন্দময় কবরে
আজ বাতাসের সঙ্গে ওঠে, সমুদ্র, তোর আমিষ গন্ধ |
হাত দুখানি জড়ায় গলা, সাঁড়াশি সেই সোনার অধিক
উজ্জ্বলতায় প্রখর কিন্তু উষ্ণ এবং রোমাঞ্চকর
আলিঙ্গনের মধেযে আমার হৃদয় কি পায় পুচ্ছে শিকড়
আঁকড়ে ধরে মাটির মতন চিবুক থেকে নখ অবধি ?
সঙ্গে আছেই
রুপোর গুঁড়ো, উড়ন্ত নুন, হল্লা হাওয়ার মধ্যে, কাছে
সঙ্গে আছে
হয়নি পাগল
এই বাতাসে পাল্লা আগল
বন্ধ রে
সঙ্গে আছে
এক অসুখে দুজন অন্ধ !
আজ বাতাসের সঙ্গে ওঠে, সমুদ্র, তোর আমিষ গন্ধ
﹋﹌﹋﹌﹋﹋﹌﹋﹌﹋﹌﹌﹋﹌



ভিতর বাইরে বিষম যুদ্ধ - শক্তি চট্টোপাধ্যায়
 
ইচ্ছে ছিলো তোমার কাছে ঘুরতে ঘুরতে যাবোই
আমার পুবের হাওয়া
কিন্তু এখন যাবার কথায়
কলম খোঁজে অস্ত্র কোথায়
এবং এখন তোমার পাশে দাঁড়িয়েথাকা কুঞ্জলতায়
রক্তমাখা চাঁদ ঢেকেছে
আকুল চোখ মুখের মলিন
আজকে তোমার ভিতরবাইরে বিষম যুদ্ধ পুবের হাওয়া।।
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি  যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয়
জন্মেই হাঁটতে হয়
হাঁটতেহাঁটতে হাঁটতেহাঁটতে
একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে পৌঁছুতে পারি
পথ তো একটা নয়
তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের কাছে বাঁধা
নদীর দু  প্রান্তের মূল
একপ্রান্তে জনপদ অন্যপ্রান্ত জনশূণ্য
দুদিকেই কূল, দুদিকেই এপারওপার, আসাযাওয়া, টানাপোরেন
দুটো জন্মই লাগে
মনে মনে দুটো জন্মই লাগে
﹋﹌﹋﹌﹋﹋﹌﹋﹌﹋﹌﹌﹋﹌



যদি পারো দুঃখ দাও - শক্তি চট্টোপাধ্যায়
 
যদি পারো দুঃখ দাও, আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি
দাও দুঃখ, দুঃখ দাও আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি।
তুমি সুখ নিয়ে থাকো, সুখে থাকো, দরজা হাট-খোলা।

আকাশের নিচে, ঘরে , শিমূলের সোহাগে স্তম্ভিত
আমি পদপ্রান্ত থেকে সেই স্তম্ভ নিরীক্ষণ করি।
যেভাবে বৃক্ষের নিচে দাঁড়ায় পথিক, সেইভাবে

একা একা দেখি ঐ সুন্দরের সংশ্লিষ্ট পতাকা।

ভালো হোক মন্দ হোক যায় মেঘ আকাশে ছড়িয়ে
আমাকে জড়িয়ে ধরে হাওয়া তার বন্ধনে বাহুর।
বুকে রাখে, মুখে রাখে – ‘না রাখিও সুখে প্রিয়সখি!
যদি পারো দুঃখ দাও আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি
দাও দুঃখ, দুঃখ দাও আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি।
ভালোবাসি ফুলে কাঁটা, ভালোবাসি, ভুলে মনস্তাপ -
ভালোবাসি শুধু কূলে বসে থাকা পাথরের মতো
নদীতে অনেক জল, ভালোবাসা, নম্রনীল জল -
ভয় করে।
﹋﹌﹋﹌﹋﹋﹌﹋﹌﹋﹌﹌﹋﹌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন